ভালুকা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জলিল তালুকদারের কর্মজীবনের শেষ কর্মদিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯৪ সালের ৮ মে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর দীর্ঘ ৩২ বছর শিক্ষকতা শেষে ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেছেন তিনি।
কর্মজীবনের শেষ দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জলিল তালুকদার তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অবসরোত্তর জীবনের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর জন্য সবার কাছে দোয়া ও প্রার্থনাও কামনা করেন তিনি।
জলিল তালুকদার তাঁর পোস্টে বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময় ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তাঁর কর্মজীবনের শেষ কর্মদিবস এসেছে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও বিদ্যালয়টির সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক থেকে যাবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বিদ্যালয়টিতে দায়িত্ব পালন করতে পারাকে তিনি জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি ও সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন।
সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জলিল তালুকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল তাঁর শিক্ষকতা জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। দায়িত্ব পালনের সময় কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি তাঁর আচরণে কঠোরতা প্রকাশ পেয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর ও সাফল্যময় হোক—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি তাঁদের জন্য শুভকামনা ও আশীর্বাদ জানান।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, বর্তমান ও সাবেক সহকর্মী এবং কর্মচারীদের সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন জলিল তালুকদার। তাঁদের সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতা ছাড়া দীর্ঘ পথচলা সফলভাবে শেষ করা সম্ভব হতো না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জলিল তালুকদার বলেন, আনুষ্ঠানিক দায়িত্বের অবসান হলেও ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নতি ও সাফল্য তাঁর কাছে সবসময়ই প্রত্যাশিত থাকবে। বিদ্যালয়টির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও স্মৃতি তাঁর জীবনে সবসময়ই বিশেষ হয়ে থাকবে।
১৯৯৪ সালের ৮ মে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ২০২৬ সালে অবসর গ্রহণের মধ্য দিয়ে জলিল তালুকদারের ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো। কর্মজীবনের শেষ দিনে তিনি বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে তাঁর অবসরোত্তর জীবনের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তির জন্য দোয়া কামনা করেছেন।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..